ভাতিজিকে ধর্ষণের দায়ে চাচার মৃত্যুদণ্ড

বরিশালে নবম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রী ভাতিজিকে ধর্ষণের মামলায় চাচা আলমগীর সিকদারকে (৫৫) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আশরাফ উদ্দিন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামি আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নাজির মো. কামরুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর সিকদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেশবকাঠী গ্রামের আব্দুর রশিদ শিকদারের ছেলে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি ও মামলার বাদী সম্পর্কে মামাতো ভাই এবং তারা একই বাড়ির বাসিন্দা। পেশাগত কারণে মামলার বাদী (মেয়ের বাবা) বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে আসামি আলমগীর সিকদার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই মাদরাসাছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতেন। উপর্যুপরি ধর্ষণের কারণে একপর্যায়ে ওই কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২২ মার্চ আসামি ওই অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীকে বাড়ির পেছনের একটি বাগানে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পুরো বিষয়টি তার মাকে জানায়। ঘটনাটি জানার পর শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আসামির বিরুদ্ধে এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষণা করেন।



