টিকটকে পরিচয়, নিখোঁজের ৬ দিন পর ঢাকা থেকে ৪ কিশোরী উদ্ধার

কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে নিখোঁজের ছয় দিন পর চার কিশোরীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকে পরিচয়ের সূত্রে তারা ঘর ছেড়েছিল এবং এর মধ্যে দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে ‘বিয়ে’ করে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারের পর তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর (সোমবার) মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী একযোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর স্বজনেরা মিরপুর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির সূত্র ধরে মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ কিশোরীদের অবস্থান সাভারের হেমায়েতপুরে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত ১১ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় হেমায়েতপুরের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই চার কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক কিশোরীর পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের অপর দুই কিশোরীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়। পোশাক কারখানায় চাকরি করা এবং একসঙ্গে থাকার প্রলোভন দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জের ওই কিশোরী মিরপুরের তিনজনকে ঢাকায় নিয়ে যায়। তারা সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই বাসায় দুই কিশোরী পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে নিজেদের মধ্যে ‘বিয়ে’র আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করেছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইউসুফ আলী জানান, “প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাদের উদ্ধার করা হয়। ১২ অক্টোবর (সোমবার) সকালে তাদের মিরপুর থানায় আনা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়।”

কুষ্টিয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জহুরুল আলম জানান, উদ্ধারকৃত চার কিশোরীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত নির্দেশক্রমে তাদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, টিকটকে পরিচয়ের জেরে কিশোরীরা বাড়ি ছেড়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Back to top button