যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার আশঙ্কায় প্রতিবেশী আরব দেশে স্থল অভিযানের ছক ইরানের

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন বাহিনী নতুন করে আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করছে তেহরান। পাশাপাশি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে সরাসরি স্থল হামলা চালানোর পরিকল্পনাও করছে দেশটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের চরমপন্থি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নীতি-নির্ধারকেরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, মার্কিন হামলার শিকার হলে তার জবাবে যেন প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো হয়। স্যাটেলাইটের সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের পারমাণবিক অবকাঠামোর চারপাশ এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে দেশটিতে আধাসাময়িক (প্যারামিলিটারি) বাহিনীর সদস্যদের স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে পাঠানো হচ্ছে শিশুদের যুদ্ধকালীন সুরক্ষা ও সামরিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য। একইসঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র পরিচালনার মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে নজিরবিহীন ও অত্যন্ত আগ্রাসী। এর অংশ হিসেবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যাপক হামলা চালিয়ে সেগুলো সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাসহ সৌদি আরবের তেল শোধনাগারগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম সরাসরি না বলা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাত বাড়লে ইরানের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে বাহরাইন কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বিশেষ করে আমিরাতে ইরানি সেনার প্রবেশ এবং সেখানে আকাশপথে হামলার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের।

Related Articles

Back to top button