আওয়ামী লীগ নেতার জামিন কাণ্ডে সেই ওসিকে বদলি

রংপুরে গ্রেপ্তারের পরদিন আওয়ামী লীগের এক নেতার জামিন পাওয়ার ঘটনায় মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদেরকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের দুটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলার তথ্য আদালতের কাছে গোপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

সোমবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ওই ওসির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরের নিসবেতগঞ্জ এলাকা থেকে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম দুলালকে বিদ্যুৎ আদালতের একটি ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরদিনই তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি সহজেই জামিন পেয়ে যান।

অভিযোগ ওঠে, আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় আরও তিনটি মামলা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সেই তথ্যগুলো আদালতকে জানানো হয়নি। যার ফলে তিনি খুব সহজেই জামিন নিয়ে পুনরায় আত্মগোপনে চলে যান।

  • প্রথম মামলা: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে নগরীর সুপার মার্কেটের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১৪ মার্চ দায়ের করা মামলায় তিনি ৪৪ নম্বর আসামি ছিলেন।

  • দ্বিতীয় মামলা: একই দিন বিকেলে কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয় মোড় এলাকায় হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে ৯ মে দায়ের করা আরেকটি মামলারও তথ্য গোপন করা হয়।

  • তৃতীয় মামলা: চলতি বছরের ২১ আগস্ট নগরীর সিও বাজার কেল্লাবন্দ এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ২৮ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এসআই মজিবর রহমানের দায়ের করা মামলার তথ্যও আদালতকে জানানো হয়নি।

এই তিন মামলার তথ্য গোপন করে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন পেতে ও আত্মগোপনে সহায়তা করার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতারা ওসিসহ এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান। এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ওসি এ কে এম নাজমুল কাদেরকে রংপুর থেকে সরিয়ে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হলো।

Related Articles

Back to top button