দিল্লিতে দিনভর উত্তেজনা: ককরোচ পার্টির ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে ছাড়ল পুলিশ


ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন ঘিরে দেশের রাজধানী দিল্লিতে দিনভর ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করেছে।
বিক্ষোভ দমাতে মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই দলটির প্রধান অভিজিৎ দ্বীপকেসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ও সমর্থককে পুলিশ আটক করে।
এদের মধ্যে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামার পর তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দ্বীপকে ও শীর্ষ তিন নেতা কোথায় আছেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং মমতা ব্যানার্জিও এখনও পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন। অভিজিতের খোঁজ না মেলার খবরের মধ্যেই তাঁর দাদির মৃত্যুর সংবাদ আসে, যা আন্দোলনকারীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে অভিজিৎকে তাঁর দাদির মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তবে দলের তরফ থেকে তাঁকে অবিলম্বে ছেড়ে দিয়ে দাদির শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভ পণ্ড করতে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রবেশের সব পথ লোহার ব্যারিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়, মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেন ও বাস চলাচল বাতিল করা হয়। এই পরিস্থিতিতে অভিজিৎ আটকের আগেই রেকর্ড করা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অজিঙ্কা সিন্ধেকে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান এবং আন্দোলনের নির্দেশ দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদচ্যুত না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
দিল্লির এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধূলিসাৎ করতেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তিনি তরুণদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও আন্দোলনকারীদের আটকের প্রতিবাদে আগামী সোমবার বড় ধরনের দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে দিনভর এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




