বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং বাতাসের মান উন্নয়নে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত শনিবার ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বায়ু দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদা পারভিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শরিফ নাফে আস-সাবের এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ টি এম নুরুল আমিন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্রের উপপরিচালক রাউফা খানম নির্ধারিত আলোচক ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. শরিফ নাফে আস-সাবের বলেন যে, বায়ুদূষণ রোধে প্রথমে মূল সমস্যাটিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং দেশীয় প্রযুক্তির সঙ্গে বিদেশি প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে দূষণের কারণ ও কার্যকর সমাধান নিয়ে সঠিক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

মূল প্রবন্ধে ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান যে, বায়ুদূষণ শুধু মানুষের শারীরিক ক্ষতিই করছে না, বরং নবায়নযোগ্য শক্তির স্বাভাবিক প্রসারকেও বাঁধাগ্রস্ত করছে। কয়লা ও জ্বালানি তেল পোড়ানোর ফলে বাতাসে ছড়ানো সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিষাক্ত ধোঁয়া সোলার প্যানেলের ওপর পুরু স্তর তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সোলার প্রজেক্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন শক্তি থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ুর মান উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Related Articles

Back to top button