নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে উত্তাল বিক্ষোভ


ভারতে ভোটার তালিকায় ব্যাপক রদবদল ও কোটি যোগ্য ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে দেশটির নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার তরুণ ও বিরোধী দলীয় কর্মী-সমর্থকরা রাজপথে নেমে এসেছেন। টানা তিন দিন ধরে চলা এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
মুম্বাইয়ে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কমিশন এক তরফাভাবে এই সংশোধন চালিয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ভোটার সরানোর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রাজধানী দিল্লিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে বিক্ষোভকারীরা তা ভাঙার চেষ্টা করেন এবং পুলিশি অভিযানের সময় কয়েকজন তরুণ আন্দোলনকারীকে আটক করা হলে পুলিশের গাড়ি ঘিরে শুয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) মতো প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি) সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা এবং ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ঐতিহাসিক বড় ধরনের মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। ফলে নরেন্দ্র মোদির টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের ওপর শিক্ষার্থীদের এই সাম্প্রতিক অসন্তোষ বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।




