চট্টগ্রামে এলপিজির বাজারে আগুন: আমদানি বাড়লেও হাহাকার, সরকারি দামের চেয়ে ৮০০ টাকা বেশি

চট্টগ্রামের এলপিজি বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির গ্যাসের সিলিন্ডার। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র সরবরাহ সংকট। ফলে বেশি টাকা দিয়েও অনেক স্থানে সিলিন্ডার মিলছে না, যা সাধারণ ক্রেতাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। তাছাড়া বিউটেন ও প্রোপেনের আমদানি যথাক্রমে ৩৮.৬ শতাংশ ও ৪.৬ শতাংশ বেড়েছে। বিইআরসির দাবি অনুযায়ী দেশে এলপিজির কোনো আসল ঘাটতি নেই। তা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও লালখান বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অস্থিতিশীলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১,৫৮৫ টাকা থাকলেও তা ২,০০০ থেকে ২,৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি ৪ অক্টোবর বিইআরসি নতুন করে দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৮১০ টাকা নির্ধারণ করায় বাজারে দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন নগরবাসী।

প্রাকৃতিক গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় বিকল্প হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

বিক্রেতা ও ডিলারদের দাবি, কোম্পানিগুলো তাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে অথচ কোনো ক্রয়ের রসিদ বা ভাউচার দিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানিয়েছেন, তারা সরবরাহ ব্যবস্থার এই ফাঁকফোকরগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন এবং বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে। সঠিক বাজার তদারকি ও সরবরাহের কৃত্রিম বাধা দূর না হলে নগরবাসীর এই দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

Related Articles

Back to top button