মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে


আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দল মিলে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগ ভারতের দালালি করেছে, অন্যদিকে বিএনপি মানুষের পকেট কেটে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে। এই নষ্ট রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্মানিত নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে সংস্কারের আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন ঘিরে পুনরায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যদি পেশিশক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কালো টাকার খেলা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা যাচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সরকারের বক্তব্যের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লন্ডনের শীর্ষ দফতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে পকেট কাটা, বালি ও মাটি উত্তোলন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের উৎসব চলছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১ হাজার ৪০০ ভাইয়ের জীবন এবং হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ. এম. মুন্না চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব জুবাইরুল আলম মানিক, জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।




