বরগুনায় ফের ঊর্ধ্বমুখী ডেঙ্গু: সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ল আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে শয্যা ও চিকিৎসক সংকট


বরগুনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেপ্টেম্বর মাস থেকে তা আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।
জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। হঠাৎ রোগী বাড়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন চিকিৎসাধীন থাকায় চরম শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪৯৩ জন সুস্থ হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৫ জন। স্বস্তির বিষয় হলো—চলতি বছর জেলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম জানান, ৮৩ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে মাত্র ১৬ জন কর্মরত থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান ডেঙ্গুর লক্ষণ জটিল হওয়ায় পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলেও হঠাৎ প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে, যা বেশ চিন্তার কারণ।
অন্যদিকে ঘনবসতিপূর্ণ ইউনিয়নগুলোতে—বিশেষ করে সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম না চালানোর তীব্র অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউপি কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্যাপ্ত মেডিসিনের অভাবে সব ওয়ার্ড কাভার করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব উপজেলায় মশক নিধনের পাশাপাশি প্রতি শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, বাজার ও প্রতিটি ইউনিয়নের একটি করে ওয়ার্ডে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




