বাসে ১০ টাকার ভাড়া ২০, ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা আদায়


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের সরকারি সিদ্ধান্ত এলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে এর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি— ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। চালকেরা তেলের দাম বাড়ার দোহাই দিলেও বাড়তি ভাড়ার স্বপক্ষে সরকারি কোনো নথি দেখাতে পারছেন না।
সাভার থেকে টেকনিক্যাল মোড়ে যাতায়াতকারী ফারজানা আহমেদ জানান, আগে এই পথের ভাড়া ২০ টাকা হলেও এখন ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ এক ধাক্কায় ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশ। বলিয়াপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী মো. আশফাক রহমান বলেন, “১০ টাকার ভাড়া আজ ২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী, এভাবে হুটহাট ভাড়া বাড়লে চলব কীভাবে?” ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা হলে ভাড়া বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ১০০ শতাংশ, ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা হলে ৫০ শতাংশ এবং ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা হলে ৩৩ শতাংশের বেশি। তবে বাসচালকেরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তেলের দাম বাড়ায় ট্রিপপ্রতি খরচ বাড়লেও প্রজ্ঞাপন ছাড়া তারা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন না।
অভিযোগের পথ ধরেই দূরপাল্লা ও শহর এলাকার গণপরিবহনে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লিটারে ২০ টাকা ডিজেলের দাম বাড়ায় বিআরটিএ ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে আলোচনা শেষে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তা কমিয়ে ১৭ পয়সায় চূড়ান্ত করে। আগামী ১-২ দিনের মধ্যে দূরত্বের ভিত্তিতে নতুন ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবে বিআরটিএ।
বর্তমানে বড় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২.৫৩ টাকা, যা বেড়ে হবে ২.৭০ টাকা। মিনিবাসে বর্তমানে ২.৪২ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২.৫৯ টাকা।
৫২ আসনের বাসে বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২.২৩ টাকা, যা বেড়ে দাঁড়াবে ২.৪০ টাকায়।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে সরকার।
সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি যৌক্তিক বলে মনে করি। নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল হবে।” রেলে এখনই ভাড়া বাড়ানোর চিন্তা নেই জানিয়ে তিনি জানান, লঞ্চ ও রেলের ভাড়া নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।
সরকার নির্ধারিত ১৭ পয়সা বৃদ্ধিতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “দূরপাল্লায় ৮ পয়সা ও সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা বাড়ালেই বর্ধিত তেলের মূল্য সমন্বয় করা সম্ভব হতো। যাত্রীপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে মালিকদের সাথে বৈঠক করায় সাধারণ মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”




