মধুপুরে খেলাধুলার নামে বনের সেগুন গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান সেগুন গাছ কেটে জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা রেঞ্জের সদর বিটের অরণখোলা ফুটবল খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকার সেগুন বাগানে দিনের আলোর পাশাপাশি রাতের আঁধারেও সুযোগ বুঝে গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতির পরিবেশ এবং মূল্যবান বনজ সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরণখোলা এলাকার ওই ফুটবল খেলার মাঠের চারপাশে থাকা সেগুন গাছগুলো কেটে ধীরে ধীরে বনের জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে একদল অসাধু চক্র। প্রতিনিয়ত ও প্রকাশ্যে দিবালোকে গাছ কাটার এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকায় স্থানীয় বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে অরণখোলা ফুটবল খেলা পরিচালনা কমিটির শাহরিয়ার জয় জানান, মূলত খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই এই গাছগুলো কাটা হচ্ছিল। তবে পরবর্তীতে কেটে ফেলা কিছু গাছ বন বিভাগের কর্মচারীরা জব্দ করে তাদের অফিসে নিয়ে গেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেগুন বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান বনজ বৃক্ষগুলোর একটি। এর আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও বাণিজ্যিক চাহিদার কারণে এটি বিশেষ সংরক্ষিত সম্পদ। তাই পরিকল্পিত বনায়ন রক্ষা করা জরুরি হলেও অনুমতি ছাড়া সরকারি বনভূমির গাছ কাটার এই প্রবণতা সার্বিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।

আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের বন ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণের সার্বিক দায়িত্ব বন বিভাগের। সরকারি বনাঞ্চলে গাছ কাটার সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক। এ অবস্থায় বনের গাছ কেটে জমি দখলের পেছনে মূল কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে বনাঞ্চলে বন কর্মীদের নিয়মিত টহল জোরদার করে সব ধরনের অবৈধ গাছ কাটা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান তাঁরা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, মূলত চোরের দল বনের কিছু গাছ কেটেছিল এবং খবর পেয়ে সে সময় কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে নবনিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ফয়সাল মিয়া জানান, বনের ঠিক কোন কোন এলাকা থেকে গাছ কাটা হয়েছে, তা তিনি নিজে সরজমিনে গিয়ে তদন্ত ও পরিদর্শন করছেন। অবৈধ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্হ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ নাজমুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Back to top button