‘শর্ত মানলে ৭ দিনেই খুলবে হরমুজ প্রণালি’

বৈশ্বিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি মাত্র সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ইরানের প্রস্তাব এখনও টেবিলে বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে তেহরানের শর্তগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান এই প্রস্তাব পেশ করেছিল। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন তাদের প্রতিক্রিয়া জানালেও প্রণালিটি চালুর জন্য ইরানের উত্থাপিত সাতটি শর্ত তারা মেনে না নেওয়ায় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে বলে তেহরানের নিরাপত্তা প্রধান নিশ্চিত করেছেন।

ইরাকের বাগদাদে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) বৈঠককালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে যে সাত দিনের প্রস্তাব দিয়েছি, তার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের অবস্থান নির্ধারিত। তারা তাদের মতামত জানিয়েছে; যা আমরা পর্যালোচনা করছি। তবে আমাদের প্রস্তাব এখনও বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যদি বিন্দুমাত্র সততা থাকে; তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথ একেবারেই স্পষ্ট।’’

ইরানের দেওয়া প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং এই অঞ্চলের সমস্ত ফ্রন্টে বৈরী নীতি বন্ধ করা।

আরাঘচি স্পষ্ট করেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব এবং এর পরদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।

যুদ্ধের মূল কারণ ও বিরোধের অন্যতম ক্ষেত্র হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানান, আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে হবে। অন্যদিকে, তেহরানের বক্তব্য হলো—যেকোনো আলোচনার শুরুতে সর্বাগ্রে হরমুজ প্রণালি চালু করা এবং জলপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের পূর্বে বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।

(তথ্যসূত্র: রয়টার্স)

Related Articles

Back to top button