ঋণ, সহায়তা হ্রাস ও কর্মসংস্থান নিয়ে সমাধান মেলেনি


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা শেষ হলেও বৈশ্বিক সংঘাত, ঋণের বাড়তি বোঝা, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রত্যাশিত কোনো সমাধান মেলেনি। সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পরও এসব সংকটের জন্য নতুন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘাটতি রয়ে গেছে।
১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। সভায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ঋণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হলেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সামনে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সমাপনী দিনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানান, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে সরকারি রাজস্বের প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো নিজেদের বাজেটসংক্রান্ত সমস্যা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় উন্নয়ন সহায়তা অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। তাছাড়া ২০৫ সালে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা ২৩ শতাংশ কমেছে, যা এক বছরে অন্যতম বড় পতন।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ নানা ভূরাজনৈতিক বিরোধ আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে সতর্ক করে জানান, বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দা এড়ালেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
সভায় কর্মসংস্থান অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সম্ভাব্য চাকরির সংখ্যা হবে প্রায় ৪০ কোটি। ফলে সম্ভাব্য কর্মসংস্থান ও নতুন শ্রমশক্তির মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি চাকরির ঘাটতি থেকে যাবে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে ব্যাংককের বার্ষিক সভা শেষে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে সংকটের চিত্র স্পষ্ট হলেও ঋণ, উন্নয়ন সহায়তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কার্যকর ও সমন্বিত সমাধান আসেনি।




