পূর্বাচলে গোলাম দস্তগীরের বিরুদ্ধে ৫০০ প্লট আত্মসাতের অভিযোগ: দুদকে আবেদন


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ শতাধিক প্লট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ এবং বিদেশযাত্রা বন্ধের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়।
আবেদনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে সরকারি এসব প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের প্রাথমিক তালিকায় সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ছাড়াও তার এপিএস এমদাদুল হক দাদুল, আনছার আলী, সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান, ফেরদৌসী আলম নীলা, ইমন হাসান খোকন এবং আরমান মোল্লার নাম রয়েছে।
আবেদন জমা শেষে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, “দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের শত শত প্লট অভিযুক্তরা নিজেদের ও স্বজনদের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ এসব প্লট বাতিল করে আসল ক্ষতিগ্রস্তদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক। একই সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশযাত্রা রোধে পাসপোর্ট জব্দের দাবি জানাচ্ছি।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, ভুয়া কাগজপত্র ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ৫০০-র বেশি প্লট আত্মসাতের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আসার পর তাঁর পরামর্শেই দুদকে এই আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী কিংবা অভিযুক্ত অন্যদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




