এক মাসে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে হুথিরা

সৌদি আরব ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের গত ৩৭ দিনে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের চার শহরে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে এই নতুন দফায় সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে রিয়াদ, মক্কা, মদিনাসহ সৌদির বিভিন্ন বড় শহরের বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের বিশাল এলাকা দখলে নেয় তারা।

এনডিটিভির সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত দুই ডজন বড় হামলা চালিয়েছে হুথিরা। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হন, যার ফলে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে হয়। স্যাটেলাইট চিত্রেও সৌদির অন্তত নয়টি জ্বালানি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষತಿಯ প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলেছে।

জুলাইয়ের শেষদিকে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণার মাধ্যমে উত্তেজনার শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থল অভিযানের মাধ্যমে কৌশলগত ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালী’র নিকটবর্তী উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকা দখলে নেয় হুথিরা। এর জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সমর্থনে বিমান হামলা জোরদার করে।

ইয়েমেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ইয়েমেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত নির্ণায়ক। সংস্থাটির প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার কারণে হুথিদের পরাজিত করা সহজ নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও লোহিত সাগরের নৌ-চলাচল ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

Related Articles

Back to top button