দিল্লির যন্তরমন্তরে সিজেপির আন্দোলন: ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ, সুপ্রিম কোর্টের কড়া সমালোচনা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে বিরোধী দল ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যন্তরমন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জানপথ ও কর্তব্যপথের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখতে টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের চিঠি পাঠিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকাত কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র। ভারতের রেলওয়ে বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চল থেকে দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে। এছাড়া দিল্লির প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে যাত্রী প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা জুড়ে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে এত বিপুলসংখ্যক মেট্রো স্টেশন একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রশাসনিক এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে আদালতের এক বিচারক মন্তব্য করেন, “মশা মারতে আপনারা হাতুড়ি ব্যবহার করতে পারেন না।” আদালত অবিলম্বে অধিকাংশ মেট্রো স্টেশন খোলা রাখার নির্দেশ দিলে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর প্রধান অভিযোগ—প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করছেন এবং তার অধীনে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তারা জানান, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রায় ৭০ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল, যা নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে অবশ্য তাদের নাম পুনরায় তালিকায় যুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে এই যন্তরমন্তর থেকেই জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জ্ঞানেন্দ্র কুমারের পদত্যাগ নিশ্চিত করেছিল সিজেপি। এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

Related Articles

Back to top button