কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক সুমন গ্রেপ্তার


কুমিল্লায় ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন జిల్లా পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত সুমন আত্মগোপনে চলে যান। তার ব্যবহৃত কোনো মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস না থাকা এবং আঙুলের ছাপযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে চিহ্নিত করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক সুমন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি লালমাই উপজেলার জগতপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি বাগমারা এলাকার মনির হোসেনের মালিকানাধীন একটি ভাড়া সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বাস করতেন।
গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবার কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরবর্তীতে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায়, তবে গভীর রাত হওয়ায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আটক অটোরিকশাচালককে কুমিল্লায় এনে ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।




