৮ মাসে ৩৫ লাখ জন্মনিবন্ধন সংশোধন: প্রশাসনিক ত্রুটি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে ইসলামী যুব আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদ

জন্ম ও মৃত্যু সনদে নাগরিকদের নাম এবং বিভিন্ন তথ্যের জায়গায় ‘লক্জ্ক্’, ‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্‌’, ‘দতককা’ কিংবা ‘LJKLJF’-এর মতো অর্থহীন ও অদ্ভুত শব্দ যুক্ত হওয়া এবং এসব ভুল সংশোধন করতে গিয়ে নাগরিকদের সীমাহীন ভোগান্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) দেশে প্রায় ৩৫ লাখ জন্মনিবন্ধন সংশোধন করার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী মানসুর আহমদ সাকী এই প্রতিবাদ জানান।

জন্ম ও মৃত্যু সনদকে একজন নাগরিকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, চাকরি এবং ব্যাংকিংসহ নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনের আবশ্যকতা রয়েছে। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থার মারাত্মক ত্রুটির কারণে নাগরিকদের নাম ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বিকৃত হয়ে যাচ্ছে এবং সেই ভুল সংশোধন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন সরকারি দপ্তরে ঘুরে মূল্যবান সময় ও অর্থ অপচয় করতে হচ্ছে। মুফতী মানসুর আহমদ সাকী বলেন, “যে ভুল নাগরিক নিজে করেনি, সেই ভুলের দায় কেন তাকে বহন করতে হবে? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভুলের মাশুল জনগণকে দিতে হবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৫৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি নতুন জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। অথচ একই সময়ে সংশোধনের আবেদন পড়েছে এবং নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ জন্মনিবন্ধন। এর আগের বছর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনের মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ১৭ হাজার। শুধু চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই নাম ও ঠিকানা সংশোধনের সরকারি ফি বাবদ নাগরিকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক সংশোধনের ঘটনা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার সার্বিক কার্যকারিতা, তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া এবং নাগরিক সেবার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে বলে মন্তব্য করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের এই নেতা। রাষ্ট্রীয় নথিতে এ ধরনের অদ্ভুত ও অর্থহীন শব্দ কীভাবে যুক্ত হলো, তা দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জোরালো দাবি জানান তিনি।

সরকারের কাছে অবিলম্বে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি বা সিস্টেমের ভুলে জন্মসনদে যেসব ত্রুটি তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও দ্রুততম সময়ে সংশোধন করা, ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকদের সব ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা।

Related Articles

Back to top button