দেশজুড়ে বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ১১৬ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা


গ্যাস সিলিন্ডার ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নৈশ ও বিশেষ তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৪৭টি জেলায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১১৬টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) অধিদপ্তরের মোট ৫৭টি দল ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা, নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এই বিশেষ তদারকির মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
অভিযানের অংশ হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং ক্রেতাদের সঠিক রশিদ প্রদান করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা।
দেশব্যাপী অভিযানের সময় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কইডাঙ্গা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করে ভোক্তা অধিদপ্তর। পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে দুধের সঙ্গে পামওয়েল, ডিটারজেন্ট এবং জেলিজাতীয় পদার্থ মিশিয়ে ভেজাল দুধ প্রস্তুত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ভেজাল দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত দুই জারিকেন জেলিজাতীয় পদার্থ, এক জারিকেন পামওয়েল, প্রস্তুতকৃত ভেজাল দুধ ও একটি ব্লেন্ডার মেশিন জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আবুল বাসার নামের এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ভেজাল দুধ তৈরির ওই স্থানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা
অভিযানে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুত বা স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা টাঙানো এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য সতর্ক করেছে অধিদপ্তর।
ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় সিলিন্ডারের ওজন, সিল, মেয়াদ এবং কোনো ত্রুটি আছে কি না তা ভালো করে যাচাই করতে হবে। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা ও রসিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।




