গুলশান-বারিধারার লেকের পানি ঠিক না করতে পারলে দেশ কীভাবে ঠিক করব: গণপূর্ত মন্ত্রী

গুলশান ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকার লেকের পরিবেশ ও পানির গুণগত মান রক্ষা করতে না পারলে পুরো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

আজ বুধবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মার্ট সিটি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বক্তব্যে গণপূর্ত মন্ত্রী জানান, গুলশান, বনানী, বারিধারা লেক এবং হাতিরঝিল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রায় ছয়বার বৈঠক করেছেন। এলাকাগুলোর প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি ভবনের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবন নিয়ম মেনে সেপটিক ট্যাংক বা সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করেনি। ফলে ড্রেনেজ বা স্টর্ম ওয়াটারের লাইনে সুয়ারেজের বর্জ্য মিশে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো স্থানীয় সোসাইটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতা বাড়াতে একাধিক বৈঠক করেছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সারাদেশের সুষম ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য প্রথমবারের মতো ১০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে মেট্রোপলিটন সিটি, পরবর্তীতে বড় শহর ও উপজেলা পর্যায়ে জোনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনাকে সঠিক তথ্য-উপাত্তনির্ভর করতে নতুন করে নিখুঁত আদমশুমারি আয়োজনের তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া ভবন নির্মাণের নিয়মাবলি কঠোর করতে ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি’ (বিবিআরএ) কার্যকর করা হচ্ছে, যাতে আর্কিটেকচারাল নকশার পাশাপাশি স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং সমন্বয় করে তবেই অনুমতি দেওয়া হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজউকের আদলে আরও ছয়টি নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে এবং নকশা বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিমালা মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭৩টির মধ্যে ১৭১তম উল্লেখ করে মন্ত্রী এই পরিস্থিতির উত্তরণে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা চান।

কনক্লেভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবসাকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় না আনলে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা অসম্ভব। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে নগরীর প্রতিটি ভবনে নিয়মিত পরিদর্শকের মাধ্যমে নজরদারি করা বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে তিনি ভবন মালিকদের নিজ নিজ দায়িত্বে নকশা মেনে ভবন নির্মাণের আহ্বান জানান। এছাড়া পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণে ৫ শতাংশ প্রণোদনা, বহুতল ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, সরকারি কাজে ব্লক ইটের ব্যবহার এবং এক বিঘা জমিতে অন্তত ১০ শতাংশ বৃক্ষরোপণ বাধ্যতামূলক করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরেন।

Related Articles

Back to top button