গাইবান্ধায় বেওয়ারিশ কুকুর-শিয়ালের তাণ্ডব: ৬ মাসে ১ শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে হাজারো মানুষ


গাইবান্ধায় বেওয়ারিশ কুকুর ও শিয়ালের ভয়াবহ উপদ্রব ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় জলাতঙ্ক এবং আঘাতজনিত কারণে গত ৬ মাসে (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬) ১ শিশুসহ ৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক কামড় ও তাণ্ডবের ঘটনায় বর্তমানে জেলাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ৬ মাসে কেবল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৬ হাজার ৯৮০ জন কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার রোগী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ২ হাজার ২৫৬ জনই কুকুরের কামড়ের শিকার।
বিগত ৬ মাসে জেলাটিতে অন্তত চার দফায় বড় ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন গ্রহণ সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে নন্দ রানী, ফুল মিয়া, রতনেশ্বর বর্মণ, আফরুজা বেগম ও সুলতানা বেগম নামে ৫ জন মারা যান। এর পর গত ২০ সেপ্টেম্বর জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ৯ জন আহত হন। এর ঠিক পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুরে কুকুরের ধাওয়া ও গলায় কামড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মারা যায় ১২ বছর বয়সী শিশু সিনথিয়া। পরবর্তীতে ২৬ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জে আবারও একটি কুকুরের হামলায় ৮ জন মানুষ এবং গবাদিপশু আহত হয়।
আক্রান্ত কুকুর ও শিয়ালের নমুনা পরীক্ষা করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরি থেকে ‘র্যাবিস’ বা জলাতঙ্ক ভাইরাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং আইইডিসিআর (IEDCR)-এর বিশেষজ্ঞ ও আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন টিম ইতোমধ্যে একাধিকবার মাঠ পর্যায়ে তদন্ত পরিচালনা করেছে।
আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। তবে স্থানভেদে কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদী ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এবং বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির অভাবকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। জেলা সিভিল সার্জন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ জনগণকে ব্যাপক হারে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা এবং বেওয়ারিশ প্রাণীদের জলাতঙ্ক নিরোধক টিকা দেওয়া নিশ্চিত না করা গেলে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আতঙ্ক কমানো কঠিন হবে।




