ফ্রান্সে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ছড়াচ্ছে: ১৮ দিনে গ্রেপ্তার ৫ হাজারের বেশি, ২৪ স্কুলে অগ্নিসংযোগ


ফ্রান্সে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন দেশজুড়ে সহিংস রূপ নিয়েছে। গত ১৮ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও পুলিশের সাথে সংঘাতের অভিযোগে ৫ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ। এদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ পর্যন্ত ২৪টি স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত কাল (রোববার) নতুন করে দেশজুড়ে প্রায় ৫০০টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দো জেফ্রে। এর আগে বন্ধ করা ৪০০টি সহ বর্তমানে ফ্রান্সে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০০টি।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্লাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, অপর্যাপ্ত শিক্ষক সংকট এবং দীর্ঘ সময়সীমার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করলেও দিন দিন তা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থী এবং ৭৮ জন শিক্ষক ও স্কুল কর্মী আহত হয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী এই সহিংসতার পেছনে উগ্র-বামপন্থী কর্মীদের অনুপ্রবেশকে দায়ী করলেও, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের এই দমন-পীড়নের কঠোর সমালোচনা করেছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি হাই স্কুল থেকে সূত্রপাত হওয়া এই সংকট নিরসনে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না থাকায় আগামীকাল (৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার থেকে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন আন্দোলনের আয়োজকরা। ফলে পুরো ফ্রান্সের শিক্ষা খাতজুড়ে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে।




