কিশোরের জামিনের পক্ষে দাঁড়ালো নিহতের পরিবার


নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী আযান আলী শরীফের জামিনের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছে নিহতের পরিবার। তবে আসামির জামিনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জামিন শুনানিতে কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা খান, আইনজীবী আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী আবেদন করেন। তারা আদালতকে জানান, মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরের নাম মামলার এজাহারে নেই বলেও দাবি করেন তারা।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে আরও জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার সময় কিশোর শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল এবং গাড়ির হর্ন দিয়েছিল। তবে নিহত ব্যক্তি তা শুনতে পাননি। আসামির বয়স বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন আইনজীবীরা।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারক বলেন, মামলাটি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মামলায় যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী এটি জামিন অযোগ্য মামলা।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আবারও কিশোরের বয়স বিবেচনায় জামিন দেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা আদালতকে জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। কিশোরের জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
এরপর বিচারক নিহত মেহেদী হাসান মীমের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চান। এ সময় নিহতের বাবা, বড় ভাই ও মামা আদালতে উপস্থিত হয়ে কাঠগড়ার সামনে দাঁড়ান এবং জামিনে তাদের আপত্তি নেই বলে জানান।
বিচারক শুনানিতে বলেন, ঘটনাটি গুরুতর এবং মামলাটির ন্যায়বিচারের দিকে সমাজের দৃষ্টি রয়েছে। মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান না থাকলেও সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। মামলাটি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় আদালতকে সব দিক বিবেচনা করতে হচ্ছে।
পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অধিকতর জামিন শুনানির জন্য সময় চান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আগামী ৪ অক্টোবর অধিকতর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে চাপা দিলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে মামলা দায়ের করা হয়।




