দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ-কসোভো এফটিএ ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা (EFTA) এবং সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (CEFTA) সুবিধা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও কসোভো।


কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় দেশটির শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনমন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলার সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে ওষুধশিল্প, বায়োটেকনোলজি ও তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাতে যৌথ সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কসোভোর বাজারে যেসব পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়:

  • তৈরি পোশাক (RMG)

  • পাট ও পাটজাত পণ্য

  • সিরামিক সামগ্রী

  • বিশ্বমানের ওষুধ

একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (Special Economic Zones) বিনিয়োগের জন্য কসোভোর বিনিয়োগকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা ত্বরান্বিত করতে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (JWC) গঠনের নীতিগত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে কসোভো চেম্বার অব কমার্স (OEK) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (DCCI) মধ্যে যৌথ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন দুই প্রতিনিধি। কসোভোর একটি অনুসন্ধানী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং কসোভোতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়।

“ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) বাজারের নিকটবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান, অনুকূল আর্থিক নীতি, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি এবং CEFTA ও EFTA-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ থাকার কারণে কসোভো বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।” — মিমোজা কুসারি-লিলার, শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনমন্ত্রী, কসোভো।

কসোভোর মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের চমৎকার আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে প্রবেশের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে।

উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে, পরিকল্পিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও কসোভোর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।

Related Articles

Back to top button