
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে রাজধানীর গুলশানে তার দুই ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদক কর্মকর্তারা ফ্ল্যাট দুটিতে যান এবং ভেতরের মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেন। দুদক উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, প্রথমদিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের ৪টিসহ ৮টি ঘড়ির বাক্স, ৩ সেট মুক্তার গহনা, ৪টি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা ও ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। আগামীকালও এই তালিকা তৈরির কাজ চলবে। তারপর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান দুদক উপপরিচালক। এর আগে, গত ২ জুলাই মশিউর রহমানের সই করা একটি চিঠির সূত্র ধরে এ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয় আদালতের নির্দেশনায় দুদক গুলশানের ওই দুই ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আদালত তার সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ‘রিসিভার’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ফ্ল্যাট দুটি গুলশান ৬৬ নম্বর রোডের ১১ নম্বর প্লটে। এর একটি ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুটের ও অপরটি ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুটের।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সাইফুজ্জামানের অনুপস্থিতিতে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটগুলোতে প্রবেশ করে তালিকা তৈরির জন্য আদালত রিসিভারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে গুলশান রেভিনিউ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগেই সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের অভিযোগ আসে। পরবর্তীতে ওই বছর গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.