উত্তরায় মানব পাচার, মাদক কারবারের অভিযোগে চার নারীসহ গ্রেপ্তার ১১
রাজধানীর উত্তরায় মানবপাচার ও মাদক কারবারের অভিযোগে চারজন নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টায় উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের গরিব-ই-নেওয়াজ অ্যাভিনিউ সড়কের হোটেল লা-স্কাইয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফোকরা গ্রামের ইসমাইল মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম (৪১), খুলনার খানজাহান আলী উপজেলার জাবদিপুর গ্রামের মৃত সোলায়মান মুন্সির ছেলে মেহেদী হাসান (৩২), হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামের মৃত শিয়াফত আলীর ছেলে এমডি আবুল হাসনাত (২৮), ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার নাগিরাট গ্রামের জাহাঙ্গীর মৃধার ছেলে নাজমুল হোসেন (২৫), গাজীপুরের জয়দেবপুর কোনাবাড়ী এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে আলি হোসেন (৩৭), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চালা শাহাজাতপুর গ্রামের শ্রী গৌর গোপাল সাহার ছেলে গৌতম সাহা (৪০), ময়মনসিংহের নান্দাইলের, টাঙ্গাইল সদরের, যশোরের শার্শা উপজেলার এবং ভোলার দক্ষিণ আইচা উপজেলার চার তরুণী।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রবিউল ইসলাম বর্তমানে দক্ষিণখানের ফরিদ মার্কেট এলাকায়, মেহেদী হাসান দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায়, আবুল হাসনাত উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে, নাজমুল হোসেন তুরাগের বাউনিয়া এলাকায়, আকলিমা দক্ষিণখানের আজমপুর বটতলা এলাকায় থাকেন।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের হোটেল লা-স্কাই এ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি হাফিজ বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে যুবতী মেয়েদের আবাসিক হোটেলের আড়ালে লোকজনের সঙ্গে দেহ ব্যবসা ও পতিতাবৃত্তি করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে আসছিলেন।’
গ্রেপ্তার হওয়া রবিল, মেহেদী হাসান, আবুল হাসনাত ও নাজমুল হোসেনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয় বলে জানান ওসি হাফিজ।
গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার ২০১২ সালের মানব পাচার আইনের ১১/১২/ ১৩ /৭ ধারার প্রতিরোধ আইনের পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.