নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা এখন রাজউকের নজরদারির বাইরে গড়ে ওঠা এক নিয়ন্ত্রণহীন কংক্রিট নগরীতে পরিণত হচ্ছে। আজমপুর কাঁচা বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ও নকশা উপেক্ষা করে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে। এসব অবৈধ নির্মাণ ঘিরে রাজউক জোন-২/১ এর পরিদর্শক শরফুদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নির্মাণে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। নাম গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, নিয়মবহির্ভূত ভবনগুলোকে নোটিশ ইস্যু করে ভবন মালিকদের ডাকিয়ে এক প্রকার জিম্মি করে ঘোষ আদায় করছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও রাজউকের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, ইন্সপেক্টর শরফুদ্দিন নিজের নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়েও ভবন মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণে বাধা না দেওয়ার আশ্বাস দেন। ফলে দক্ষিণখানসহ আশপাশের এলাকায় রাজউকের কার্যকর তদারকির অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ নির্মাণাধীন ভবনে নেই বাধ্যতামূলক সাইনবোর্ড, সেফটি নেট কিংবা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনেক ভবনে মানা হচ্ছে না ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR), আবার কোথাও অনুমোদিত নকশা থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে।স্থানীয় একাধিক ভবন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“ইন্সপেক্টরকে ম্যানেজ করেই কাজ চলছে। নইলে এতদিনে নির্মাণ বন্ধ হয়ে যেত।”রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান,“ইন্সপেক্টর শরফুদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। তিনি মাঝে মাঝে নিজের এলাকার বাইরের জোনেও হস্তক্ষেপ করেন।”অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দেয়নি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিদর্শক শরফুদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদনেকে বলেন,
“আমি কোথায় কী করেছি, কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি—এ বিষয়ে আপনাকে কেন বলতে হবে?”এ কথা বলেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন বহুতল ভবন অগ্নি নিরাপত্তা ও ভূমিকম্প ঝুঁকির দিক থেকে মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। আজকের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের নগর বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এখন প্রশ্ন—অভিযোগের পাহাড়ের মুখে রাজউক কি আদৌ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে? দক্ষিণখান এখন শুধুই একটি এলাকা নয়—এটি রাজউকের কার্যকারিতার বাস্তব পরীক্ষাক্ষেত্র।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.