আন্তর্জাতিক ডেস্ক :গত মঙ্গলবার রাতে ইরান স্মরণকালের সবচেয়ে বড় আঘাতটি হানে ইসরাইল ভূখণ্ডে। প্রায় ৪০০শ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এ হামলা চালায় ইরান। এ হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে উঠলো। কেননা, হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইল যদি পাল্টা প্রত্যাঘাত শুরু করে তাহলে যুদ্ধ যে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কে না জানে। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা দানা বেঁধেছে।
মোসাদের জাল যে পারস্য উপসাগরের তীরের শিয়া দেশটির ভিতরে কীভাবে ছড়িয়ে রয়েছে, নাসরুল্লার মৃত্যুর পর তা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ। তার দাবি, ইসরাইলকে ঠেকাতে তেহরানের যে গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে, তার প্রধানই ইহুদিদের হয়ে চরবৃত্তি করেছেন।
সম্প্রতি তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দেন আহমেদিনেজাদ। সেখানেই মোসাদকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিনি।
তার দাবি, ২০২১ সালের মধ্যে এটা স্পষ্ট হয়েছিল যে তেহরানের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ইসরাইলের হয়ে কাজ করছেন।
সাবেক এই ইরানি প্রেসিডেন্ট সিএনএনকে বলেছেন, ইহুদিরা আমাদের দেশের ভিতরে অনায়াসেই জটিল অভিযান চালাতে পারে। এর জন্য যে তথ্যের প্রয়োজন, সেটা পাওয়া ইসরাইলের কাছে একেবারেই কঠিন নয়। আশ্চর্যজনকভাবে সব জেনেও তেহরান এ ব্যাপারে নীরব। যা বিপদের কারণ হতে পারে।
আহমেদিনেজাদের দাবি, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইরানি গোয়েন্দা বাহিনীতে এমন ২০ জন এজেন্ট রয়েছেন, যারা ইহুদিদের হয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। এই ডাবল এজেন্টরাই ইসরাইলকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সংবেদনশীল তথ্য তুলে দিয়েছে। ২০১৮ সালে ওই নথি চুরির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তারা।
ইরান পরমাণু হাতিয়ার তৈরির উদ্যোগী হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তাতে বাধা দিয়ে আসছে ইসরাইল। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত একাধিক ইরানি গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। যার নেপথ্যে ইহুদি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাত রয়েছে বলেই মনে করে বিশেষজ্ঞ মহল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.