
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে শুক্রবার টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সৈকতে পর্যটকদের জন্য রাখা অর্ধশতাধিক চেয়ার ও ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাগরের বুক থেকে উঠে আসা টর্নেডোতে সৈকতে অবস্থানকারী শত শত পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সৈকতের ব্যবসায়ীরা জানান, দুপুরের পর আবহাওয়া কিছুটা মেঘলা ছিল। বেলা পৌনে ৩টার দিকে সাগরের পানিতে আচমকা ঘূর্ণিবায়ু সৃষ্টি হয় এবং সেটি ধীরে ধীরে বিশাল জলকুণ্ডলীর মতো বালুচরের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘূর্ণিটি সুগন্ধা পয়েন্টের উত্তর অংশে সরাসরি আঘাত হানে। টর্নেডোটি প্রায় ৩ থেকে ৫ মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল। সাগরের লোনা জল আর বালু উড়তে উড়তে যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে তখন পর্যটকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি দেখা দেয়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পর্যটকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। আতঙ্কের মাঝেই অনেক পর্যটককে মোবাইল ফোনে টর্নেডোর দৃশ্য ধারণ করতে দেখা যায়। হঠাৎ ধেয়ে আসা টর্নেডোর মূল ঝাপটা যায় সৈকতের কিটকট (বিশ্রাম নেওয়ার চেয়ার-ছাতা) ব্যবসায়ীদের ওপর দিয়ে। মুহূর্তের মধ্যে উড়ে যায় এবং ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সারি সারি রাখা চেয়ার ও ছাতা।
কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সাগরের দিক থেকে একটি ঘূর্ণিবাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে আসে। পরে সেটি সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে সৈকতে রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে গেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তিনি বলেন, টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে। এর মুখে পড়লে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। শক্তিশালী টর্নেডোর ঘূর্ণিপাকের মধ্যে থাকা ফানেল বা শুঁড়ের মতো অংশ যে কোনো বস্তু বা মানুষকে মাটি থেকে অনেক উঁচুতে তুলে নিতে পারে। তিনি জানান, সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি থাকে। তবে অনুকূল আবহাওয়ার পরিবেশ তৈরি হলে বছরের অন্য সময়েও এটি ঘটতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন আবহাওয়াবিদ বলেন, এটা টর্নেডো হতে পারে। কারণ অগভীর যে কোনো জলরাশিতেই টর্নেডো হতে পারে। কক্সবাজারের সৈকতও প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর। তিনি বলেন, তিনি নিজেও ছয় বছর কক্সবাজারে ছিলেন এবং সেখানে কোমরসমান পানির মধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ গজ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া যায়। এ ধরনের জায়গায় টর্নেডো হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও এমন ঘটনা প্রায় ঘটে। কক্সবাজার সৈকতের ভিডিও দেখে তিনি বলেন, ভিডিওতে দেখা যায়— খুব অল্প দূরত্বের মধ্যে এটি তৈরি হয়ে ঝাউবনের দিকে চলে গেছে। তবে ভিডিও নিয়ে অনেক সময় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়ায়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তাদের নেই। ভিডিওর ভিত্তিতে দেখে এটিকে টর্নেডো বলা যেতে পারে। তবে যদি এটি টর্নেডো হয়, তাহলে সেটি খুবই দুর্বল ধরনের।
আবহাওয়াবিদ বলেন, একটি ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ সাধারণত ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে একটি টর্নেডোর সর্বনিম্ন গতিবেগই প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি এলাকা নিয়ে অতিক্রম করলেও একটি টর্নেডো মাত্র ১০০ মিটার এলাকার মধ্য দিয়েও যেতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.