
গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার অপরাধীকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে।
রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম ও 'আয়নাঘর'-এর দুঃসহ থাবা দেশের ওপর চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের তুলে নিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া হতো, অথচ তৎকালীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তা অস্বীকার করে গেছে। এখন প্রতিশোধ নয়, বরং প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় এনে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে তিনি বিগত আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্নমতাবলম্বীর কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও মানবাধিকার কর্মী সানজিদা ইসলাম তুলির অবদানও শ্রদ্ধাভরে উল্লেখ করেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, তাদের সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য গুমের সংস্কৃতি চালু করবে না এবং দেশে কাউকে তা করতেও দেওয়া হবে না। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তাদের স্বজনদের হারিয়ে যাওয়ার বেদনা তুলে ধরেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.