
নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালের মালিক বিএম জাহিদুল হক মিতুর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিতু স্বীকার করেন যে কমিটিতে তার নাম রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, কমিটিতে তার কোনো স্বাক্ষর নেই। যদিও আওয়ামী লীগের শাসনামলে কোনো কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা ছিল না।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ মেয়াদকালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের নির্বাচিত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বিএম জাহিদুল হক মিতু। ওই সময় তার দলীয় সম্পৃক্ততা নিয়ে দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে এখনও মিতুর যোগাযোগ রয়েছে। চিকিৎসার অজুহাতে ভারতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে মিতুর দাবি, তিনি কেবল চিকিৎসার জন্যই ভারত ও অন্য একটি দেশে গিয়েছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তার মালিকানাধীন হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না দিয়ে কেবল নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের সম্পত্তি দেখভালের সঙ্গেও মিতু যুক্ত ছিলেন। আজমত উল্লাহ খানের একটি বাড়ি এখনও তিনি দেখাশোনা করছেন বলে নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি রূপ বদলে নিজেকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। নিজ এলাকা নরসিংদী হওয়ায় বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও দাবি করছেন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীত ঘনিষ্ঠতা, শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বজায় রাখা সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তনের কারণে বিএম জাহিদুল হক মিতুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকে তাকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ধরণের হুমকি হিসেবে দেখছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.