
কর নথি অডিটে পড়েছে—এমন ভুয়া তথ্য দিয়ে করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। অডিট থেকে অব্যাহতির প্রলোভন কিংবা আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে করদাতাদের ফাঁদে ফেলার এই অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, “করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতারকদের প্রলোভন বা ভয়ভীতি প্রদর্শনে বিভ্রান্ত হয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য করদাতাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, যদি কেউ এনবিআর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে এনবিআর আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এনবিআর জানায়, প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিথ্যা দাবি করছে যে, তাদের কর নথি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী:
অডিট সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বা অননুমোদিত মাধ্যমে করদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।
কোনো নথি অডিটের জন্য নির্বাচিত হলে আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশের মাধ্যমে তা জানানো হয়।
বকেয়া কর বা ফি শুধুমাত্র সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে কিংবা বিকাশ, রকেট, নগদ বা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।
করদাতাদের করণীয় সন্দেহজনক কোনো ফোনকল, খুদে বার্তা (এসএমএস) বা ই-মেইল পেলে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।
উল্লেখ্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এনবিআর সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফায় প্রায় ৯৩ হাজারেরও বেশি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮৮ হাজার এবং সর্বশেষ ৩০ জুন আরও ৫ হাজার ১৪টি আয়কর রিটার্ন অডিটের আওতায় আনা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ আরিফ হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
Copyright © 2026 Rajdhani Suprovat - রাজধানী সুপ্রভাত. All rights reserved.